
কক্সবাজারের চকরিয়ায় অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে অপহরণ মামলায় সুমন বৈষ্ণব (৩৫) নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় তাকে আরও ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং পৃথকভাবে ৩৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অনাদায়ে তাকে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কক্সবাজারের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক রবিউল আলম এ রায় দেন। আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট সলিমুল মোস্তফা এ তথ্য জানান।
দণ্ডপ্রাপ্ত সুমন বৈষ্ণব চকরিয়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের তরছঘাটার বাসিন্দা।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৬ জুলাই বিকেলে চকরিয়া কোরক বিদ্যাপীঠের পাশের সড়ক দিয়ে মা ও ভাইয়ের সঙ্গে বাড়ি ফেরার সময় ওই শিক্ষার্থীকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে অপহরণ করা হয়। এ সময় বাধা দিতে গেলে শিক্ষার্থীর মাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে একটি মাইক্রোবাসে করে ওই শিক্ষার্থীকে নিয়ে যাওয়া হয়।
এ ঘটনায় চকরিয়া থানায় মামলা হলে তদন্ত শেষে একই বছরের ১১ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এতে সুমন বৈষ্ণবকে প্রধান আসামি করা হয় এবং মামলার অপর তিন আসামিকে অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়া হয়।
মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত সুমন বৈষ্ণবকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৩০ ধারায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। একই আইনের ৭ ধারায় তাকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অনাদায়ে পৃথকভাবে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার সময় আসামি পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তারা এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন।